ঢাকা: বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ হতে চলেছে আগামী জুন মাসে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ সফর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে এই সফর ও প্রতিপক্ষ নির্বাচন নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগেও বাফুফে জাতীয় দল কমিটির সভায় মিয়ানমার, থাইল্যান্ড বা মালদ্বীপের মতো এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ম্যাচ খেলার আলোচনা চলছিল। কিন্তু হুট করেই সান মারিনোর সঙ্গে ম্যাচ চূড়ান্ত করায় অবাক হয়েছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী। সান মারিনো ফিফা র্যাংকিংয়ের ২১১তম দল, অর্থাৎ বর্তমানে সক্রিয় ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থান সবার নিচে। র্যাংকিংয়ে ১৮১তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অসম লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
বাফুফে তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে ও ফেসবুক পেজে এই ম্যাচটিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ‘প্রথম ম্যাচ’ হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু বাফুফের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল ইতিহাসবিদরা। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে লন্ডনে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে বাফুফের এই দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তাত্ত্বিকভাবে সান মারিনোর বিপক্ষে জয় পাওয়ার ভালো সুযোগ থাকলেও, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্কৃতি ও আবহাওয়া জামাল ভুঁইয়াদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে। বাফুফে কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ফুটবলারদের ইউরোপীয় কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত করা এবং ফুটবলের মূল উৎসভূমি থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
তবে সমর্থকদের বড় একটি অংশের মতে, দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে র্যাংকিং ও আত্মবিশ্বাস কতটা বাড়বে—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। ৫ জুন মাঠে গড়াবে এই বহুল আলোচিত ম্যাচ। এখন দেখার বিষয়, ইউরোপীয় মাটিতে জামাল-হামজারা কেমন নৈপুণ্য দেখাতে পারেন।