রিজার্ভ বেড়ে ৩২.৬২ বিলিয়ন ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩২.৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.০২ বিলিয়ন ডলার। বিস্তারিত রিজার্ভ রিপোর্ট জানুন।
দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই দর্শনকে কেন্দ্র করেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি সাজানো হয়েছে, যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভৌত অবকাঠামোকে। সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় যেমন দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্নের মেগা প্রকল্পের ছোঁয়া রয়েছে, তেমনি রয়েছে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী চিন্তা। তবে মেগা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধির অতীত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—বাজেটের এই বিশাল অংকের সুফল কি সময়মতো সাধারণ নাগরিকের ঘরে পৌঁছাবে?
প্রস্তাবিত বাজেটে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজের মতো মেগা প্রকল্পের অনুমোদন (৩৪,৪৯৭ কোটি টাকা) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৭ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। যদিও এই প্রকল্পে আপাতত সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি, তবে এটি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পাশাপাশি, ঢাকার যানজট নিরসনে ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যটি খুবই সময়োপযোগী। বিশেষ করে, বোয়িং থেকে ১৪টি আধুনিক বিমান ক্রয় এবং থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে দেশের বিমান পরিবহন শিল্প বিশ্বমান স্পর্শ করবে বলে আমরা আশা রাখি।
বাজেটের অন্যতম প্রশংসনীয় দিক হলো গণপরিবহনের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর। বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে মাত্র পাঁচ শতাংশ ভ্যাট রেখে বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফ এবং ইভি রেজিস্ট্রেশনের অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাবটি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরই অংশ। এই সিদ্ধান্তটি দেশের পরিবহন খাতে একটি ‘গ্রিন রেভোলিউশন’ বা সবুজ বিপ্লব ঘটাতে পারে।
উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ প্রায়শই অব্যবহৃত থেকে যায় অথবা প্রকল্প শেষ হতে বছরের পর বছর দেরি হয়, যা ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিমের ভাষায়, “যত বড় বাজেট, তার একটা বড় অংশ আনইমপ্লিমেন্টেড থাকবে।” এই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।প্রকল্পের খসড়া তৈরি থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য যদি হয় একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, তবে অবকাঠামো উন্নয়নের এই গতি বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে না পারলে এই বিশাল বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকলে পদ্মা ব্যারেজ থেকে শুরু করে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক—সব প্রকল্পই দেশের অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে। একটি আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় Tweet বাংলা-র পক্ষ থেকে আমরা সরকারের এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রইলাম।