ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ জহির হোসেন。
বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতা যেখানে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের চেনা ক্ষত, সেখানে রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক গতি এক অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মাত্র আট বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে যেভাবে পৈশাচিক লালসার শিকার বানিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল, তার বীভৎসতা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে এর পর থেকে রাষ্ট্র, পুলিশ এবং আদালতের সম্মিলিত তৎপরতা অপরাধীদের জন্য একটি নির্মম ও অমোঘ সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। গত ৭ জুন নিম্ন আদালতে নরপশু সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর, আজ রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এই ত্বরিত পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বড় অপরাধের বিচার চুটকিতে এবং দৃষ্টান্তমূলক উপায়ে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সাধারণত বাংলাদেশে একটি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস এবং বিচার সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর কেটে যায়। কিন্তু রামিসা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে কাজ করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার, ১৯ মে সংঘটিত অপরাধের মাত্র ৪ দিনের মাথায় (২৪ মে) মামলার নিখুঁত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেয় পল্লবী থানা পুলিশ। মাত্র ১ দিনে মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ৭ জুন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
নিম্ন আদালতের এই আপসহীন গতি ধরে রেখেই ৯ জুন মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি উচ্চ আদালতে আসে এবং আজ বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।
এই মামলার উচ্চ আদালত পর্যায়ে সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক দিকটি হলো নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের ঘোষণা। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই আলোচিত মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো ধরনের সময় বা ডেট নেবে না, বরং নিয়মিত শুনানির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আসামিদের ফাঁসির রায় চূড়ান্ত করতে লড়বে।
উচ্চ আদালতের এই অনমনীয় ও দ্রুত অবস্থান ভুক্তভোগী পরিবারের মনে ন্যায়বিচার পাওয়ার চূড়ান্ত আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। অপরাধীরা যেন কোনো ধরনের আইনি মারপ্যাঁচে বা দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে না পারে, রাষ্ট্রপক্ষকে তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
রামিসার মা যেভাবে প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিজের সন্তানের মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর অবরুদ্ধ মাথা আবিষ্কার করেছিলেন, সেই আজীবনের ট্রমা কোনো আইনি রায়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। কিন্তু অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো গেলে তা রামিসার আত্মার শান্তি এবং তার বাবা-মায়ের বুক ফাটা কান্নায় কিছুটা হলেও সান্ত্বনা এনে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সংস্কারমুখী সরকার দেশে যে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে, রামিসা মামলার এই ত্বরিত বিচার প্রক্রিয়া তারই একটি বাস্তব চিত্র।দৈনিক শব্দমিছিল-র পক্ষ থেকে আমরা পুলিশের তদন্ত দল, ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং উচ্চ আদালতের এই সময়োপযোগী ও সাহসী তৎপরতাকে স্যালুট জানাই। রামিসা মামলার এই ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ মডেলটি যেন দেশের প্রতিটি শিশু ও নারী নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী স্থায়ী আইনি মডেল বা সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়—এটাই আমাদের আজকের দিনের প্রধান প্রত্যাশা।