নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য জয়ের বার্তা নিয়ে আসেনি। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও দলের শরীরী ভাষা ও কৌশলগত দুর্বলতা নিয়ে ম্যাচের পর সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো। প্রথমার্ধের বিবর্ণ ফুটবলের পর দ্বিতীয় অর্ধে ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও, অভিজ্ঞ কাসেমিরো স্বীকার করেছেন যে এটি ব্রাজিলের জন্য মোটেও কোনো ‘স্বপ্নের শুরু’ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২১ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তবে সেই ধাক্কা সামলে নিতে খুব বেশি সময় নেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ১১ মিনিট পরই (৩২ মিনিটে) গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ স্কোরলাইন নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো দলের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল এতটাই অগোছালো ছিল যে কেবল ভাগ্যের জোরে তারা বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েনি। দানিলোর ভাষ্যমতে, প্রথমার্ধে মাঠের অবস্থান, টেকনিক ও ট্যাকটিক্স—সবদিক থেকেই ব্রাজিল বাজে খেলেছে।বোতাফোগোর এই মিডফিল্ডারের মতে, খেলোয়াড়রা শুরু থেকেই চরম স্নায়ুচাপে ও উদ্বিগ্ন ছিল। নিজেদের ভুলের কারণে বারবার বিপদে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাগ্য ভালো থাকায় প্রথমার্ধে আর গোল হজম করতে হয়নি।
দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও মনে করেন, ম্যাচের শুরু থেকে মরক্কোর ওপর কোনো চাপ না থাকলেও ব্রাজিল ছিল উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা সব সময় জয় দিয়ে শুরু করতে চাই, কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল একটি দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। ম্যাচটা ‘স্বপ্নের মতো শুরু’ ছিল না”। তবে দ্বিতীয় অর্ধে দলের বল দখল ও সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
দানিলো ও কাসেমিরো—উভয়েই মনে করেন যে দ্বিতীয় অর্ধে দলের কৌশলগত পরিবর্তন ব্রাজিলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এই ঘুরে দাঁড়ানো ড্রেসিংরুমের মনোবল বাড়াবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সাহায্য করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে আগামী ২০ জুন। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি।