হিজরি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ইনসাফভিত্তিক দেশের আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের
হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। অন্যায়-বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান।
সংসদ প্রতিবেদক: ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ধর্ষণের মতো অনৈতিক ঘটনা ঘটছে—জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশন চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান এই গুরুতর প্রসঙ্গের অবতারণা করেন।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাজেটে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা হিসাব করলে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে মাত্র ৯০টি পরিবার এই সুবিধা পাবে। কার্ডের এই তীব্র সংকট ও পাওয়ার প্রতিযোগিতাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নাম করে নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে এবং বড় অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাজউদ্দিন খানের এই বক্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন।
সংসদে ভাষার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। সংসদে কোন ভাষা ব্যবহার করতে হবে, তা জানতে হবে।”
তিনি অবিলম্বে ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ’ সংক্রান্ত বক্তব্যটি সংসদের রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার জোর দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ওই বক্তব্যকে আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে তা এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন। তবে ডেপুটি স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যুক্তি দেন যে, কোনো বক্তব্য তখনই কেবল এক্সপাঞ্জ করা যায় যখন তা সম্পূর্ণ অসত্য বা অসংসদীয় হয়।
এরপর মেহেরপুরের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান পুনরায় ফ্লোর নিয়ে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সুনির্দিষ্ট গণমাধ্যমের খবর ও পুলিশের দাপ্তরিক উদ্ধৃতি পেশ করেন। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে, যার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির এক সহ-সম্পাদককে একই অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার হস্তক্ষেপ করে মন্তব্য করেন যে, ফ্যামিলি কার্ড শুধু প্রধানমন্ত্রী বা বর্তমান সরকারের একক বিষয় নয়, এটি সারা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বড় আশার জায়গা।
মাগরিবের নামাজের বিরতি শেষে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বিষয়টি নিয়ে আবারও সরব হন। তিনি বলেন, যে ঘটনাটি পত্রপত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যার জেরে মামলা, গ্রেপ্তার এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই অসত্য হতে পারে না।
তাজউদ্দিন খান সরকারের বা ফ্যামিলি কার্ডের কোনো সমালোচনা করেননি, বরং এই কার্ডকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যে সামাজিক অপকর্ম করা হচ্ছে তা প্রতিরোধে কথা বলেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জামায়াত হুইপকে আশ্বস্ত করে চূড়ান্ত রুলিং দেন যে, তাজউদ্দিন খান পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট মামলা, স্থান ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করে যেসব অকাট্য প্রমাণ দিয়েছেন, তা সংসদের রেকর্ডে বহাল থাকবে।
সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এতে আপত্তি জানালেও ডেপুটি স্পিকারের রুলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটে।