এমপিদের ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রো ওভেনের দাবি জামায়াত এমপির
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় এমপিদের ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেন ও জানালার পর্দা সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদকীয় ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন প্রথম বিদেশ সফরটি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত মাইলফলক হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি তাঁর এই ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সরাসরি চার দিনের সরকারি সফরে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই দ্বৈত রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার পর দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম গন্তব্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়া। ২২ জুন দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক জমকালো আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন।
এরপর দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি এবং কারিগরি সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইসকান্দারের রাজকীয় বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও শ্রমবাজারের সুরক্ষায় এই সফর অনন্য ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বন্দর ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টস, বিখ্যাত বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া এবং জ্বালানি খাতের জায়ান্ট পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক দেশের জন্য বড় ধরনের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সফরের দ্বিতীয় ধাপে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের ডালিয়ান শহরে পৌঁছাবেন, যা বাংলাদেশের বহুমাত্রিক কূটনীতির এক নতুন বহিঃপ্রকাশ।
চীন সফরের প্রথম দিনেই ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
একই দিন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যালয়েস জুইঙ্গির সঙ্গেও তাঁর ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী ডালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য নিউ চ্যাম্পিয়নস অব ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবেন।
তবে এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি ঘটবে চতুর্থ দিনে বেইজিংয়ে, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ জুন বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে এই বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো ভূ-কৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষ প্রাধান্য পাবে।
দীর্ঘ দেড় দশকের প্রবাস জীবন শেষে স্বদেশে ফিরে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই দূরদর্শী বিদেশ সফর দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।