জাতীয় ডেস্ক: রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিহার করে দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য সবাইকে মানসিকতা পরিবর্তনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ঝড়-ঝাপটা ও বিগত দিনের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদার কণ্ঠে বলেন, “হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি।
সফল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কেবল বিভেদ বাড়ায়, দেশের কোনো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না; তাই সামগ্রিক চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।
মতবিনিময় সভায় দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো বৈরিতা বা শত্রুতা নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের কাজে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা আড়াল না করে গণমাধ্যমকে সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ভুল হতেই পারে, তবে তা নিয়ে গণমাধ্যমে সুস্থ ও গঠনমূলক আলোচনা হোক।
১৬ জুন তারিখটিকে দেশের সংবাদপত্রজগতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই কালো দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার মাত্র চারটি সরকারি প্রচারপত্র রেখে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দিয়েছিল।
সংবাদপত্রের সেই শ্বাসরুদ্ধকর কালো অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এই মুহূর্তে বর্তমান বাংলাদেশে নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাকশাল গঠনের মাধ্যমে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করা হলেও পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দেন এবং সংবাদপত্রের ওপর থেকে সব ধরনের অনায্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু সরকার একাকী দেশের সব সংকট সমাধান করতে পারবে না, এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আপনারা সহযোগিতা না করলে সরকার বুঝতে পারবে না যে কাজটা ভালো হচ্ছে নাকি খারাপ হচ্ছে। তাই ভালো কাজের পথ দেখানোর দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের।
প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সুচারু সঞ্চালনায় এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, এবং উপ–প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন ও শাহাদাত হোসেন স্বাধীনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।