মো. জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রাকিবুল ইসলাম এই রায় দেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী মো. আজিবর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিন হাওলাদার (৩৩) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের রবীন্দ্রনগর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণী থেকে বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী রবীন্দ্রনগর গ্রামে তাঁর নানা বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। নানার ঘরে টেলিভিশন দেখতে আসতেন আল-আমিন। ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন আল-আমিন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এই ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৪ জুন ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আল-আমিনকে একমাত্র আসামি করে মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেন। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহমেদ একই বছরের ৩১ জুলাই আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। বিচারক মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন।
রায়ে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই শিশুর ভরণপোষণ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির অবর্তমানে শিশুটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। একই সঙ্গে শিশু মরিয়মের জন্ম নিবন্ধনের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিনের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।