ডা. বদরুজ্জামান, যশোর অফিস: কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতায় শত সংকট আর সমস্যায় জর্জরিত যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভা। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৫ সালে ‘প্রথম শ্রেণী’র মর্যাদা পেলেও পৌরবাসীর কপালে জোটেনি কাঙ্ক্ষিত সেবা। ২৫ বছর পার হলেও গড়ে ওঠেনি নিজস্ব খেলার মাঠ, শিশুপার্ক কিংবা পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, কাগজ-কলমে এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও জাতীয় সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু এবং ওয়ারিশ সনদ নিতে গিয়ে চরম নাজেহাল হতে হয় নাগরিকদের। সেবার মান বাড়েনি, অথচ বৃদ্ধি পেয়েছে বাসাবাড়ি ও জমিজমার পৌর কর।
নওয়াপাড়া শিল্পশহর হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এখানে নদী, সড়ক ও রেলপথের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বহু হালকা ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, গুদাম এবং নৌ-ঘাট। এসব ঘাটের মালামাল পরিবহনে নিয়মিত আবাসিক এলাকার অপ্রশস্ত সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে বিশালাকৃতির ভারী যানবাহন। ফলে নির্মাণের অল্প দিনেই ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোর পিচ উঠে মেঠো কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত পর্যন্ত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পৌরসভার বেঙ্গল রেলক্রসিং থেকে ডিএন মোড় পর্যন্ত নির্মিত একমাত্র ফুটপাতটি তদারকির অভাবে দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদারেরা। কোথাও আবার গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। ভৈরব নদের তীর ধরে নির্মিত একমাত্র ওয়াক-ওয়েটিও স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঘাট মালিক ও বখাটে-নেশাজাতীয় ব্যক্তিদের দখলে চলে গেছে। রাতের বেলায় সিংহভাগ সড়কের সোলারের আলো বা বাতি অচল থাকায় অন্ধকারে চরম ঝুঁকিতে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান:
পৌরসভার বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগ ও অবৈধ দখলের বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সড়ক ও ফুটপাত সংস্কারে খুব দ্রুত অভিযান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।