গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে একটি অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়ার দুই দিন পর একটি কুকুরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কুকুরটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে নির্মাণাধীন ওই ভবনের পাশে থাকা সেপটিক ট্যাংকের উন্মুক্ত গর্তে পড়ে যায় কুকুরটি। ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় এবং সেপটিক ট্যাংকের গর্তটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় ঝোপঝাড়ে ঢাকা থাকায় বাইরে থেকে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না।
গত রোববার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পান। পরে ঝোপঝাড় সরিয়ে উঁকি দিয়ে তাঁরা দেখেন, নোংরা পানির ভেতরে কুকুরটির শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ ডুবে রয়েছে এবং সেটি আটকা পড়ে আছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রমজান আলীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দড়ি, প্লাস্টিকের বস্তা ও কাঠের টুকরা ব্যবহার করে কুকুরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। কয়েকবার বস্তার সঙ্গে কুকুরটিকে ওপরে তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাকে অক্ষত অবস্থায় ওপরে তুলে আনা হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও নোংরা পানিতে ডুবে থাকায় উদ্ধারের পর কিছুক্ষণ কুকুরটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকলেও, পরে সুস্থ হয়ে সেটি দ্রুত লোকালয়ের দিকে চলে যায়।
এই মানবিক কাজ সম্পর্কে উদ্ধারকারী দলের অন্যতম সদস্য রমজান আলী বলেন, ‘আমি কয়েকজন লোক নিয়ে কুকুরটিকে উদ্ধার করেছি। এটি বিশেষ কোনো কাজ নয়, একদম সাধারণ কাজ। সব প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকা উচিত।’
পরিবেশকর্মী ও ‘নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম এই ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পশুপাখি প্রকৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেকোনো বিপদে পড়া প্রাণীকে রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। নগরহাওলায় কুকুরটিকে উদ্ধারের এই ঘটনা মানবিকতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।