ফেনী: আজ সোমবার ছিল পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই গতকাল রবিবার রাতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সব আয়োজন চিরতরে থেমে গেছে। ফেনীর লালপোল এলাকায় বাস উল্টে নিহত হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুল আলিম (৩৫)। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা।
নিহত আবদুল আলিম সিলেট কাস্টমসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাটে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি মিরসরাইয়ের বারাইয়ারহাট পৌরসভায় বসবাস করতেন। তাঁর কোনো ভাই নেই, কেবল এক বোন রয়েছেন, যাঁর বিয়ে হয়েছে সাত-আট বছর আগে। বাবা মো. আবদুল কাদের বন বিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর বারাইয়ারহাটে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস করে আসছেন।
পরিবার জানায়, একমাত্র ছেলের বিয়ে ধুমধাম করে দেবেন—এমনটাই স্বপ্ন ছিল মা-বাবার। ছেলের জন্য পাত্রী দেখা শুরু হয়েছিল এবং আজ সোমবার পাত্রী দেখতে যাওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। সেই উপলক্ষেই কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন আলিম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল রবিবার রাত আটটার দিকে ফেনীর লালপোল এলাকায় আলিমকে বহনকারী যাত্রীবাহী বাসটির সামনে থাকা একটি দ্রুতগামী ট্রাক হঠাৎ ব্রেক কষে। এ সময় বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলিম এবং বাসের অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানায় ছুটে যান। ছেলের লাশ নিতে এসে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা মো. আবদুল কাদের, তাঁর চোখ দিয়ে অবিরাম পানি ঝরছিল। অন্যদিকে বাড়িতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন নিহতের মা। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের পর আজ দুপুরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুরে নানাবাড়িতে তাঁর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে আকস্মিক ব্রেক কষা ট্রাকটিকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।