ঢাকা: দেশের বাজারে তামাকপণ্যের মূল্য আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের খুচরা মূল্য বাড়িয়ে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আয়োজিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে এসংক্রান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছিল। ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর আওতায় সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালাসংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে সংশোধনী এনে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আগে প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের খুচরা মূল্য ৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব থাকলেও, নতুন সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে।
বাজেট ও সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব স্তরের সিগারেটের দামেই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের দাম নিচে তুলে ধরা হলো:
নিম্নস্তর (Low Tier): পূর্বে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হলেও, সর্বশেষ সংশোধনীতে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব (মোট বৃদ্ধি ৫ টাকা)।
মধ্যম স্তর (Medium Tier): বর্তমান নির্ধারিত মূল্য ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব (বৃদ্ধি ১২ টাকা)।
উচ্চ স্তর (High Tier): বর্তমান নির্ধারিত মূল্য ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব (বৃদ্ধি ২০ টাকা)।
অতি-উচ্চ/প্রিমিয়াম স্তর (Premium Tier): বর্তমান নির্ধারিত মূল্য ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব (বৃদ্ধি ২৫ টাকা)।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি ও যথাযথ সমন্বয়ের ফলে বাজারে তামাক পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে তামাক খাত থেকে রাজস্ব ফাঁকি রোধের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে অর্থ ও কর বিভাগ।