পারস্য উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে চায় রাশিয়া
পারস্য উপসাগরীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ
আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথি গোষ্ঠীর কাছ থেকে পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে কিছু ‘চমক’ থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সমীর আল-সাবরির বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইয়েমেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সমীর আল-সাবরি বলেন, সানা পুনর্দখলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বা ‘চমক’ এখনই প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলিও সানা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, হুথি মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণ থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানা শহরকে সব ইয়েমেনির রাজধানী হিসেবে পুনর্বহাল করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। ভবিষ্যতে প্রতিশোধ, প্রতিশোধমূলক সহিংসতা কিংবা বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না বলেও আশ্বস্ত করেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটিতে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলেও ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে পরিস্থিতিতে তুলনামূলক শান্তি বজায় ছিল।
তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেনের পরিস্থিতি আবারও আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। হুথিরা লোহিত সাগরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করে এবং এর জেরে আন্তর্জাতিক সামরিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি পায়।
সানা পুনর্দখলের সিদ্ধান্তের ঘোষণা ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সরকারি বাহিনী যদি সানা পুনর্দখলের জন্য বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে পারে।
তবে ইয়েমেন সরকার ঠিক কখন এবং কী ধরনের অভিযান শুরু করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে অভিযানের কথিত ‘চমক’ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।