কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যৌথ অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ১৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনভর পরিচালিত এই অভিযানে প্রথমে ৩২ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ১৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, সরকারি হাসপাতাল দুটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য গোয়েন্দা বিভাগের কাছে ছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার পর দালালদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
সেই তালিকার আলোকেই মঙ্গলবার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল দুটি হাসপাতাল এলাকায় একযোগে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩২ জনকে আটক করা হয় এবং অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নিয়ে প্রধানত গ্রাম ও জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অসচ্ছল ও অসহায় রোগীদের চিহ্নিত করত।
পুলিশ জানায়, দালালরা রোগীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা কিংবা কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রলোভন দেখাত। পরবর্তীতে রোগীদের সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জিম্মি ও হয়রানি করত।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্পষ্ট জানান, সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সরকারি কোনো হাসপাতাল চত্বরে দালালদের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।