অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে বন্দরে বসছে স্ক্যানার ও এক্স-রে মেশিন
অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে ৫ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিমানবন্দর ও বাস টার্মিনালে স্ক্যানার ও এক্স-রে মেশিন বসানো হবে।
ঢাকা: রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই এখন বেপরোয়া ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার রাজত্ব। কোনো ধরনের লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা আইনি নিবন্ধন ছাড়াই ‘যেমন খুশি তেমন চল’ নীতিতে চলা এসব যানের কারণে যেমন ভেঙে পড়েছে সড়কের শৃঙ্খলা, তেমনি বাড়ছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও যানজট। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য; এসব ঝুঁকিপূর্ণ অটোরিকশার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন বিত্তশালী ও প্রভাবশালীরা। অল্প পুঁজিতে দ্বিগুণ লাভের আশায় সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্থ বিনিয়োগ করায় সড়কে থামানো যাচ্ছে না এই অটোরিকশার দৌরাত্ম্য।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু এসব এলাকাতেই গড়ে উঠেছে প্রায় চার হাজার অটোরিকশার গ্যারেজ। যেগুলোর অধীনে চলাচল করছে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি অটোরিকশা। একটি নতুন অটোরিকশা তৈরিতে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হলেও, বিনিয়োগকারীরা চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার নয়, বরং গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে দৈনিক ভাড়া আদায় করছেন। সে হিসাবে একটি রিকশা থেকে মাসে ১৫ হাজার টাকা অর্থাৎ বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ আসছে।
প্রধান সড়কে অটোরিকশা ওঠার কারণে ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত চালকদের বিরুদ্ধে মামলা ও আর্থিক জরিমানা করছে। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন আসল বিনিয়োগকারী ও পৃষ্ঠপোষকরা। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রান্তিক চালকরা। তাদের দাবি, অটোরিকশা বন্ধ করতে হলে এর উৎপাদনকারী, গ্যারেজ মালিক ও মূল বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু খেটে খাওয়া গরিব চালকদের ওপর আইন প্রয়োগ করা অমানবিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেন, “হঠাৎ বিপুল পরিমাণ অটোরিকশার পেছনে প্রান্তিক চালকদের নিজের কোনো পুঁজি নেই। অতীতে সিএনজি অটোরিকশার মতো এখন প্রভাবশালীরা এতে অর্থ বিনিয়োগ করছেন। রাস্তায় অটোচালকদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার মূল সাহস আসে এসব প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে। প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকলেও, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গিয়ে কোনোভাবেই সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে বলি দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে মূল বিনিয়োগকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
গ্রামগঞ্জ থেকে আসা অসহায় ও নিম্নবিত্ত মানুষ বিনা পুঁজিতে জীবিকার তাগিদে এই পেশায় ঝুঁকলেও সঠিক প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে তারা প্রতিদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেবল চালকদের জরিমানা করে এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব নয়; এর স্থায়ী সমাধানের জন্য অবৈধ কারখানা, গ্যারেজ এবং পর্দার আড়ালে থাকা অর্থায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।