ব্রিকসের নৈশভোজে গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে কিংবদন্তি কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম’ গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
আন্তর্জাতিক: ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ায় আন্তঃকোরীয় যৌথ যোগাযোগ কার্যালয় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পিয়ংইয়ংকে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের করা এক মামলার রায়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালতের এক মুখপাত্র জানান, আদালত রায় দিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়া সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন পরিশোধ করতে হবে। আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংসের এই ঘটনার জেরে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার এটিই প্রথম ঘটনা।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর তৎকালীন পরিচালিত কায়েসং শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত এলাকায় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ওই যৌথ যোগাযোগ কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এটি চালু হওয়ার পর দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে কভিড মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যালয়টির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের জুনে সীমান্তে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারপত্র ছড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ আখ্যা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের আমলে এই ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
আদালতের এই রায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করে দেখবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিয়ংইয়ং স্বেচ্ছায় বা বাস্তবে কখনো এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করবে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে তিনটি সফল শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের বরফ গলেছিল। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই আন্তঃকোরীয় সম্পর্কে ফের অবনতি ঘটতে শুরু করে।