আসিফ মাহমুদের সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ, বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে জমি ক্রয় ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিএফআইইউর কাছে নথিপত্র চেয়েছে দুদক।
জাতীয়: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একসঙ্গে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা (তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের সম্মিলিত প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মেট্রোরেলসহ অন্যান্য প্রকল্পের সার্বিক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সভায় জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দুটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) প্রকল্পে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পে ৮৯ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানান, প্রকল্পের কাজের পরিধি ও স্কোপ ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হওয়ার কারণে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডিতে স্টেশনের অবস্থান পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, শ্রমের ব্যয়, ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং জাপানি মুদ্রার বিপরীতে বিনিময় হারের প্রভাব পড়েছে। এছাড়া জাইকার ঋণের সুদের হার শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.০৫ শতাংশে পৌঁছানোও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি। বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সভায় দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫২.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্পে মোট ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং বাকি অর্থ এডিবি ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজেলনির্ভরতার অবসান ঘটিয়ে রেলওয়েতে বিদ্যুৎনির্ভর ট্রেন পরিচালনার যুগ শুরু হতে যাচ্ছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বাধিক ৫টি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এর মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২টি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২টি (বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে আবাসন নির্মাণ) এবং স্থানীয় সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।