তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তান সামরিক অভিযান চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পাকিস্তানে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে কাবুলের।
মুজাহিদের ভাষ্য, পাকিস্তান যদি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর ধারা উল্লেখ করে আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে আফগানিস্তানেরও নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার রয়েছে। আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হলে পাকিস্তানকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মুজাহিদের এই বক্তব্য আসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরীর সাম্প্রতিক অভিযোগের পর। আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌধুরী দাবি করেন, আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড ব্যবহার করে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন মুজাহিদ। তাঁর দাবি, তালেবান আফগান ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)কে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয় না। অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও তালেবান সমর্থন করে না বলে জানান তিনি।
মুজাহিদ আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দেশের ভেতরেই মোকাবিলা করা। টিটিপি ও বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে পাকিস্তানের অস্থিরতা তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার আগের ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি।
দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা চললেও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আফগানিস্তান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মুজাহিদ। তিনি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কাবুল ও ইসলামাবাদের বিরোধ মেটাতে সৌদি আরবের আরও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছেন তালেবানের এই মুখপাত্র। তাঁর মতে, সৌদি আরব দুই দেশেরই বন্ধু এবং মতপার্থক্য নিরসনে দেশটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তপারের সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ বেড়েছে। ইসলামাবাদ আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে তালেবান কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।