নেপালের ভয়াবহ বন্যার কারণ খুঁজতে বৈজ্ঞানিক তদন্ত
২৬ আগস্টের ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে নেপাল সরকার। তদন্তে হিমবাহ, ভূতত্ত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
আন্তর্জাতিক: রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরের এই হামলায় আবাসিক ভবন, একটি গুদাম এবং মস্কোর তেল শোধনাগারের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা দমন করা হয়। সোফিনো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
ওরেখোভো-জুয়েভো এলাকায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানার পর এক বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হন। মস্কো অঞ্চলে এ হামলায় মোট ছয়জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি মস্কোর ওপর এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি। রাশিয়ার কর্মকর্তাদের হিসাবে, শনিবার থেকে মস্কোর দিকে আসা ড্রোনসহ দেশজুড়ে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
সোবিয়ানিন জানান, কয়েকটি ড্রোন মস্কো তেল শোধনাগারের এলাকায় পৌঁছে স্থাপনার ক্ষতি করেছে। রাজধানীর একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে মস্কো শহরের ওই ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
হামলার কারণে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো ও ভনুকোভো বিমানবন্দরে সাময়িক উড্ডয়ন ও অবতরণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও কিছু ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা জানানো হয়।
এর এক দিন আগে শনিবার রুশ হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও সুমি অঞ্চলে অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিয়েভ অঞ্চলে ফাস্তিভ এলাকায় এক নারী ও তাঁর দুই শিশু নিহত হন। ভিশহোরোদ এলাকায় রুশ হামলায় আহত আরেক শিশু পরে হাসপাতালে মারা যায়। ফলে ওই অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়ায়।
সুমি অঞ্চলেও রুশ হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হওয়ার কথা স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। তবে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়নি; আইনটি এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনকে ক্ষমতা দিয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। নতুন আইনটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে মস্কোর আয় কমানোর লক্ষ্যে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর চার বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।