অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত প্যাকেজে ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ৪০ হাজার ভারী বোমার পাশাপাশি আরও ২০ হাজার I-2000 penetrator warhead রয়েছে। অর্থাৎ মোট যুদ্ধাস্ত্রের সংখ্যা ৬০ হাজার।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে নোটিফিকেশন দেওয়া বা চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে ২০ হাজার MK-84 এবং ২০ হাজার BLU-117—দুই ধরনেরই ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ভারী বোমা। এর সঙ্গে রয়েছে ২০ হাজার I-2000 penetrator warhead, যা শক্ত ও সুরক্ষিত স্থাপনা ভেদ করে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি।
MK-84 একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের ভারী বোমা। এর বিস্ফোরণ ও ধ্বংসক্ষমতা বড় ভবন ও মাঝারি মাত্রায় সুরক্ষিত স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। BLU-117 একই ওজনের একটি বোমা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভুল লক্ষ্যভেদী প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে I-2000 penetrator শক্ত কংক্রিট বা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেদ করে বিস্ফোরণের জন্য নকশা করা।
প্রস্তাবিত চুক্তির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের Foreign Military Financing (FMF) কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। এ ব্যবস্থায় মার্কিন সরকারের অর্থ ব্যবহার করে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে। ফলে প্যাকেজটির বড় অংশের অর্থায়ন মার্কিন সরকারি তহবিল থেকে আসবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় একক ভারী বোমা সরবরাহের প্রস্তাবগুলোর একটি।
২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় কিছু ২ হাজার পাউন্ডের বোমার চালান ইসরায়েলে পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে ২০২৫ সালের শুরুতে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।
বর্তমান প্রস্তাবটি সেই ভারী অস্ত্র সরবরাহ পুনরায় বাড়ানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এসেছে। তবে এবারের প্যাকেজ এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক কংগ্রেসীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অবস্থান নিয়েছেন। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেছেন, তিনি এই অস্ত্র হস্তান্তর ঠেকাতে কাজ করবেন। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা বোমা ইসরায়েলি সরকারের কাছে পাঠানোর বিষয়ে তিনি আপত্তি করছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকসও ৪০ হাজার ভারী বোমার প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও লেবাননে এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং মার্কিন আইন ও বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষার মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে যথেষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
তবে আইনপ্রণেতাদের আপত্তি থাকলেও প্রস্তাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। মার্কিন প্রশাসনের হাতে কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটানোর কিছু আইনি সুযোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই গোলাবারুদের মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ ও ইউক্রেনকে সহায়তার কারণে বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমেছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
আল-জাজিরার হিসাব অনুযায়ী, ৬০ হাজার ২ হাজার পাউন্ড শ্রেণির যুদ্ধাস্ত্রের মোট ওজন প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। তবে এই হিসাবের মধ্যে ৪০ হাজার বোমা ও ২০ হাজার I-2000 penetrator warhead—দুই ধরনের অস্ত্রই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গাজায় ২ হাজার পাউন্ডের বোমার ব্যবহারে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরের জাবালিয়া হামলাতেও এ শ্রেণির বোমা ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৮০ কোটি ডলারের প্যাকেজটি তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক সহযোগিতার বিষয় নয়; গাজা ও লেবাননে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি, মার্কিন করদাতাদের অর্থের ব্যবহার এবং কংগ্রেসের তদারকি—সব মিলিয়ে এটি ওয়াশিংটনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।