অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: ইসরায়েলের কাছে ২৮০ কোটি (২ দশমিক ৮ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই প্রস্তাবে অনুমোদন না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস।
প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজে ৪০ হাজার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের (প্রায় ৯০৭ কেজি) শক্তিশালী বোমা রয়েছে। গাজা ও লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং তা মার্কিন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে হবে কি না—এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন দুই আইনপ্রণেতা।
সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্যাহিন গত জুলাই থেকেই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রিতে ‘হোল্ড’ দিয়ে রেখেছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করবেন। গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে সম্ভাব্য ব্যবহারের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট নিয়েও তার উদ্বেগ রয়েছে।
শ্যাহিনের অবস্থানের ফলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে একই বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেছেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সরকারের কাছ থেকে যথেষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস ১৬ সেপ্টেম্বর জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে তিনি অনুমোদন দেবেন না। তার ভাষ্য, প্রশাসন এখনো যথেষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারেনি যে ইসরায়েল এসব অস্ত্র মার্কিন আইন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ব্যবহার করবে।
মিকস বিশেষ করে গাজা ও লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৪০ হাজার ভারী বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা উল্লেখ করলেও অস্ত্র ব্যবহারে আইনগত ও মানবিক সুরক্ষার নিশ্চয়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭—মোট ৪০ হাজার ২ হাজার পাউন্ডের বোমা রয়েছে। এর আগে গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কায় বাইডেন প্রশাসন একই ধরনের ভারী বোমার কিছু চালান আটকে রেখেছিল।
প্রস্তাবিত বিক্রির অর্থায়নের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে হওয়ার কথা। অর্থাৎ অস্ত্র কেনার জন্য ইসরায়েলকে মার্কিন সরকারি অর্থায়ন দেওয়া হবে।
মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির শীর্ষ সদস্যরা বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হোল্ড’ দিতে পারেন। এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং আইনপ্রণেতারা অতিরিক্ত তথ্য ও নিশ্চয়তা চাইতে পারেন। তবে এটি প্রেসিডেন্টের ওপর চূড়ান্ত আইনগত নিষেধাজ্ঞা নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট চাইলে কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পাশ কাটানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অতীতেও ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে এমন ক্ষমতা ব্যবহার করেছে।
প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির সময় গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়েও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ফলে ২৮০ কোটি ডলারের এই অস্ত্র প্যাকেজ শুধু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলনীতি, অস্ত্র ব্যবহারে মানবিক সুরক্ষা এবং কংগ্রেসের তদারকি নিয়ে চলমান বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে।