অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশি নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা ও বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সার্বিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বিপর্যয়টি কীভাবে শুরু হয়েছিল, কীভাবে তা নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে।
এ জন্য নেপালের শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় জলবিজ্ঞান, হিমবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, রিমোট সেন্সিং, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে। প্যানেলটি দুর্যোগের সম্ভাব্য উৎস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত সরেজমিনে গবেষণা চালাবে।
নেপাল সরকারের প্রাথমিক মূল্যায়নে বিপর্যয়ের উৎপত্তিস্থল ও এর ধারাবাহিক ভৌত প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ভারী বৃষ্টিপাত বা সাধারণ বন্যা হিসেবে না দেখে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহ ও জলবিদ্যুৎসংক্রান্ত একাধিক ঝুঁকির সম্মিলিত ফল হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
সরকার বিশেষভাবে জানতে চায়, উচ্চ পর্বতে কোনো বরফ-শিলা ধস, নদীপথে সাময়িক বাধা সৃষ্টি এবং পরে সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বিপর্যয়টির পেছনে ছিল কি না। ভোতেকোশি নদী ব্যবস্থা হয়ে কীভাবে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও পলিমাটি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
প্যানেলটির সমন্বয় করছেন পানিনীতি ও শাসনবিশেষজ্ঞ দেবেশ বেলবাসে। সদস্যরা হলেন—
জলবিজ্ঞানী ড. নরেন্দ্র মান শাক্য
হিমবিজ্ঞানী ড. রিজান ভক্ত কায়স্থ
রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ ড. উত্তম বাবু শ্রেষ্ঠা
ভূতত্ত্ববিদ ড. মেঘরাজ ধীতাল
জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ড. হরি পণ্ডিত
দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস বিশেষজ্ঞ অনিল পোখরেল
প্যানেলটি বন্যার উৎস থেকে পুরো নদী করিডর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। তদন্তে বিপর্যয়ের ক্রম, তাৎক্ষণিক ও অন্তর্নিহিত কারণ, ভৌত ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হবে।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহের ক্ষয় বা পাহাড়ি পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার মতো পরিবর্তন বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়েছে কি না।
এ বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট উষ্ণায়ন হিমবাহ পাতলা হওয়া ও পারমাফ্রস্ট গলার মাধ্যমে পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতা কমিয়ে এ ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। তবে গবেষকেরা এটিকে একক কারণ হিসেবে দেখেননি; ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনসহ অন্যান্য কারণও ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের একটি দ্রুত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছিল, ২৬ আগস্টের ঘটনা তীব্র স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে উচ্চ পর্বতে বরফ, শিলা ও মাটির বিশাল অংশ ধসে পড়ার মাধ্যমে শুরু হতে পারে। ওই ধসের ফলে নদীপথে সাময়িক প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে পরে তা ভেঙে গিয়ে বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক বর্ণনাতেও ঘটনাটিকে হিমবাহ-সম্পৃক্ত দ্রুত ঢালধস থেকে সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক ডেব্রিস ফ্লো ও বন্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। শুরুতে এটি সরাসরি হিমবাহ ধস ছিল কি না, নাকি হিমবাহ-সমৃদ্ধ ভূমিধস—তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও বলা হয়েছিল।
২৬ আগস্টের বিপর্যয়ে ভোতেকোশি–ত্রিশূলী করিডরে সড়ক, সেতু, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে হিমালয়ের অন্যান্য নদী অববাহিকায় একই ধরনের বহুমাত্রিক দুর্যোগ ঘটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ঝুঁকি কতটা হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেপাল সরকার তদন্তের মাধ্যমে এ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর সহনশীলতা বাড়ানোর উপায় চিহ্নিত করতে চায়।