খেলা

জাতিসংঘে খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের ভাষণে ছিল গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায্য বিশ্বব্যবস্থার আহ্বান

জাতীয়: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর দেওয়া প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার তুলে ধরেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং আরও ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে তাঁর ওই ভাষণ ৪৮তম অধিবেশনের ১৩তম পূর্ণাঙ্গ সভার বক্তব্য হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে খালেদা জিয়ার ৩৩ বছর আগের সেই বক্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে। তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৯৩ সালের ভাষণে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে পরস্পরকে শক্তিশালী করা দুটি বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাফল্য দারিদ্র্য মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুঁজির স্বল্পতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল কোনো দেশের পক্ষে একা সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নশীল বিশ্বের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলাকে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া বড় ও ছোট রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্ব দেন। ক্ষুদ্র ও দুর্বল দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নদীর পানিবণ্টন, সমুদ্র আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শরণার্থী, অর্থনৈতিক অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদার মতো বিষয়কে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার সর্বজনীনভাবে গ্রহণের পক্ষে মত দেন তিনি।

উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন খালেদা জিয়া। প্রযুক্তি ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও তথ্যপ্রবাহের ওপর বিধিনিষেধ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বৈষম্যমূলক বাণিজ্যব্যবস্থা দূর করা এবং উত্তর-দক্ষিণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে জোরদারের কথাও বলেন।

পরিবেশ সুরক্ষা নিয়েও ভাষণে বিস্তারিত কথা বলেন খালেদা জিয়া। শিল্পোন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দূষণের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলার ব্যয় বহনের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্বের কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের পাটশিল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি পাটজাত পণ্যকে কৃত্রিম ও রাসায়নিক বিকল্পের তুলনায় পরিবেশবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেন। কৃত্রিম তন্তুর বিস্তারের কারণে পাটশিল্প ও এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকার ওপর ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমস্যাও ছিল ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া অভিন্ন নদীর পানিসম্পদের ওপর বাংলাদেশের আইনগত অধিকারের কথা বলেন।

ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির কারণে বন্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি গঙ্গার পানির ন্যায্য বণ্টনে একটি জরুরি ও স্থায়ী চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

একই সঙ্গে সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তৎকালীন সার্ক চেয়ারপারসন হিসেবে দারিদ্র্য বিমোচন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

১৯৯৩ সালের বাস্তবতায় বাংলাদেশের ওপর থাকা শরণার্থী চাপের কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় আড়াই লাখ শরণার্থীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে জানিয়ে তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করার কথা জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ভারতে চলে যাওয়া শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনেও বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ ছাড়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সহিংসতা ও জাতিগত নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে দেশটির জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। নামিবিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, কুয়েত, কম্বোডিয়া, সোমালিয়া ও মোজাম্বিকে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং শান্তিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ধনী সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও ইসরাইলের মধ্যে তৎকালীন সাম্প্রতিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রও তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। অর্থনৈতিক সংস্কার, কৃষি, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি, ২০০০ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য, খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং দরিদ্র মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেওয়া ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচির কথা বলেন।

স্যানিটেশন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ত করাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের ভাষণের ৩৩ বছর পর তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

Related News

জাপানকে ২ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ২০০তম জয় ভারতের

বৃষ্টিতে পাঁচ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে জাপানকে ২ রানে হারিয়েছে ভারত। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে ২০০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে ভারত।

বিদায়ী ম্যাচে মেসির জন্য বিশেষ জার্সি, থাকবে স্মরণীয় নকশা

আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য শেষ ম্যাচে মেসির জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ নকশার ১০ নম্বর জার্সি। ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে চলছে প্রস্তুতি।

জাকার্তায় বাংলাদেশ দলে যোগ দিলেন সামিত সোম

ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন প্রবাসী মিডফিল্ডার সামিত সোম। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে টুর্নামেন্টে নামার প্রস্তুতি বাংলাদেশের।

পাকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসে পদকশূন্য বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৪৫ রানের জবাবে ১১৪ রানে থামে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের আহ্বান,১৬০-এর বেশি ক্রীড়াবিদের খোলা চিঠি

ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের দুটি ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১৬০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ।

বার্সেলোনার শিশু ক্যানসার সেন্টারে মেসির ২৬ লাখ ইউরোর অনুদান

বার্সেলোনার SJD Pediatric Cancer Center নির্মাণে মেসি ফাউন্ডেশন ও স্টাভরোস নিয়ারকোস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ২৬ লাখ ইউরো দিয়েছিল। শিশু ক্যানসার চিকিৎসায় বছরে প্রায় ৪০০ নতুন রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রটির।

নেপাল ফুটবলে নতুন সংকট, গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তা

ম্যাচ-ফিক্সিং, আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ রবীন্দ্র জোশি ও হিসাব কর্মকর্তা সঞ্জীব পান্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইবি।

এশিয়ান গেমসে প্রথম ডোপিং কাণ্ড, নিষিদ্ধ থাইল্যান্ডের পিচামন

জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসে থাইল্যান্ডের নারী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিচামন ওপাটনিপুথের নমুনায় নিষিদ্ধ ফুরোসেমাইড শনাক্ত হয়েছে। সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই শাটলার।

Search