৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খুলে দেওয়ার রূপরেখা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনার রূপরেখা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর নাম বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এখন থেকে এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে উল্লেখ করা হবে এবং বিশ্বও এ নাম গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা করেন।
২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন ট্রাম্প। সেখানে এআই নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি ব্যবহার করলে প্রযুক্তিটিকে নকল বা কৃত্রিম কিছু মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, এ প্রযুক্তি নকল নয়; বরং এটি অসাধারণ। তবে একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার কথাও বলেন তিনি।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এখান থেকে এবং এখন থেকে’ যুক্তরাষ্ট্রের সব সরকারি নথিতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশও এ নাম ব্যবহার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর তিনি বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর নতুন জগতে সবাইকে স্বাগত।
তবে প্রযুক্তি জগতে superintelligence শব্দটির আলাদা একটি প্রচলিত অর্থ রয়েছে। সাধারণভাবে মানুষের সক্ষমতার চেয়ে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা অর্জনকারী উন্নত এআই ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ফলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নামটি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পরিভাষার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়।
জাতিসংঘে ভাষণের সময় ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এআই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এআই নিয়ন্ত্রণে কোনো ‘গ্লোবালিস্ট’ কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নজরদারির আহ্বান জোরালো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এআই ব্যবহারে আরও সুরক্ষা ও তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অন্য কয়েকটি দেশের নেতারাও প্রযুক্তিটির নিরাপদ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেন।
এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপরও জোর দেন ট্রাম্প। তিনি প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশকে শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরে এর প্রবৃদ্ধি থামিয়ে না দেওয়ার কথা বলেন।
একই সঙ্গে এআই নিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে, তবে এর ব্যবহারে সতর্কতাও প্রয়োজন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিটির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনেও এআই নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি বিশ্বনেতাদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।