৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খুলে দেওয়ার রূপরেখা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনার রূপরেখা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক: জাতিসংঘকে ‘অকেজো’ ও ‘অকার্যকর’ সংস্থা হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সংস্থাটি তার মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
মিলেই বলেন, জাতিসংঘ যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সংস্থাটি সেই লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে। তিনি সংস্থাটির আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিলেই বলেন, বড় শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাঁর মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নিয়ম মেনে চলা দেশগুলোও ন্যায্য আচরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তবে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী আলোচনাতেও সংস্থাটির কার্যকারিতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার প্রয়োজন হলেও জাতিসংঘ এখনও অপরিহার্য এবং এর বিকল্প নেই।
ভাষণে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গও তোলেন মিলেই। আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত দ্বীপপুঞ্জটির ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলের সমুদ্রসীমায় তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা সরকার ফকল্যান্ডস-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের লক্ষ্যে একটি বিলও উত্থাপন করেছে।
মিলেই জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড সবার জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে না। ফকল্যান্ড ইস্যুতে সংস্থাটির ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মিলেইয়ের সমালোচনার সময়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের আলোচনায়ও প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার ও আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’—এ জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও উদ্বোধনী সাধারণ বিতর্কে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইনের অবক্ষয় এবং ভূরাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সক্ষমতা ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।