সেন্ট পিটার্সবার্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া চুক্তি: সাংস্কৃতিক কূটনীতির নতুন দিগন্ত
সেন্ট পিটার্সবার্গ কালচারাল ফোরামে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, সুশাসন ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
বিশ্বরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইউরোপের যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব এবং অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতির কারণে চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ববাসীকে এক নতুন আশার বার্তা দিয়েছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দেওয়া এই বক্তৃতা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি অটল অঙ্গীকারের বলিষ্ঠ ঘোষণা।
জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুপাক্ষিক কূটনীতি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈষম্য দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
জলবায়ু ন্যায়বিচার অর্জন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বানের মাধ্যমে তিনি আবারও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় অবস্থান ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে শান্তিপূর্ণ সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের নিরলস অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়, যা জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল ও প্রশংসিত করেছে।
মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর আইনি ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপর দাবি জানানো হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও মানবতাবোধে বাংলাদেশ আপসহীন।
বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে নগণ্য অবদান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে—এই চিরন্তন সত্যটি বিশ্বনেতাদের সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
গ্লোবাল সাউথ ও জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি দেশগুলোর জন্য প্রতিশ্রুত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ দ্রুত কার্যকর করা এবং জলবায়ু প্রযুক্তি স্থানান্তরের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিগত সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা লাঘবে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল আর্কিটেকচার গড়ে তোলার ওপর তিনি তাগিদ দেন, যা একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভিলক্ষ্যে থাকা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বিশ্বসভার এই সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ কেবল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি; বরং বৈশ্বিক সংকট নিরসনে উদীয়মান দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে।
এখন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত এই কূটনৈতিক বার্তাগুলোকে বাস্তবমুখী চুক্তিতে রূপান্তর করা এবং সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করাই হবে মূল অগ্রাধিকার।
সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় বিশ্বমঞ্চে ব্যক্ত করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে জাতীয় ঐক্য ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখা জরুরি।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্র চিন্তক।