নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত সফর করতে পারেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নিয়ে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ঢাকা: আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
দুদকের অভিযোগ, ‘স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই আইএফআইসি ব্যাংক থেকে তিন দফায় ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদে ও বিভিন্ন স্থানান্তরের মাধ্যমে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্কের নামে প্রথমে ৯০ কোটি টাকার ওডি ঋণ অনুমোদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তা বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, সর্বশেষ দফায় ঋণের সীমা বাড়ানোর সময় প্রায় ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখার প্রস্তাব থাকলেও তা স্থগিত রাখা হয়। পরে ওই বন্ধক সম্পন্ন হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচয় ও কেওয়াইসি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর পরিশোধের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আগের ঋণের ব্যবহার এবং ঋণের সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতাও যাচাই করা হয়নি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ওই ঋণের বিপরীতে সুদ ও অন্যান্য চার্জ ছিল ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সা। ওই দিন ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা। এই অর্থকে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখিয়েছে দুদক।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের অর্থের উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে। দুদক আরও বলছে, একদিনে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে উত্তোলনের ঘটনাও তাদের অনুসন্ধানে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর, পরিচালক ইশরাত জাহান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।
সালমান এফ রহমান ও আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে মোট ১৪টি ‘ভুয়া ও কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে ৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। স্কাইমার্কের ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ সেই অনুসন্ধানের একটি অংশ।
তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।