চুয়েট উপাচার্য নিয়োগ বিতর্ক ও সংকট : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
চুয়েট উপাচার্য অপসারণ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, নতুন ভিসির অনলাইনে যোগদান ও শিক্ষাঙ্গনের অচলাবস্থা নিরসনে করণীয় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের ঘটনাটি কেবল একজন উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তার ক্ষয়ক্ষতি নয়; এটি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর আশঙ্কার বার্তা।
আবাসন প্রকল্পের জমির বিরোধ ও অনাকাঙ্ক্ষিত চাঁদাবাজির অজুহাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল যেভাবে প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি ছুড়ে, সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস করে স্টুডিও তছনছ করেছে—তা স্পষ্টতই চরম আইনশৃঙ্খলাহীনতার শামিল।
দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশকে কলঙ্কিত করার এক সূক্ষ্ম চক্রান্ত দৃশ্যমান হচ্ছে।
ঘটনার পর পর সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক ধারায় উত্তরণের এই নাজুক সময়ে একদল সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী চক্র মূলধারার রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর ভেতর ভিড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
রাজনীতির মাঠে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে ও নতুন সরকারকে বিব্রত ফেলতে অসাধু চক্র কৌশল পরিবর্তন করেছে।
বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও সুবিধাবাদী উপাদান বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ছায়াতলে ঢুকে নিজেদের চাঁদাবাজি ও জমি দখলের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদের কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ নেই; এদের মূল লক্ষ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে বা পুলিশের নাকের ডগায় হামলা চালিয়ে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা দিতে চায় যে দেশে নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। দল-মত নির্বিশেষে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।
ইতিমধ্যেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হামলার মূল পরিকল্পনারীসহ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কিছু লুণ্ঠিত আলামত উদ্ধার করেছে।
তরুণ সমাজ এবং সৃজনশীল উদ্যোক্তারা একটি দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে মূলত দেশের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সরকার ও প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রাজনৈতিক ছদ্মবেশে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর, সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতা ও চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে মূলউৎপাটন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো অপরাধী যেন দলের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েই কেবল জনআস্থা অটুট রাখা সম্ভব।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।