পেজেশকিয়ানের ‘মাথা নত নয়’ বার্তায় বাহুবলীর যুদ্ধের দৃশ্য, ভাইরাল
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ‘মাথা নত নয়’ বার্তাকে তুলে ধরতে প্রভাস অভিনীত ‘বাহুবলী’র যুদ্ধের দৃশ্য ব্যবহার করেছে ইরানের হায়দরাবাদ কনস্যুলেট।
আন্তর্জাতিক: ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া নতুন করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। ইউক্রেনকে সহায়তা থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিরত রাখা এবং ইউরোপীয় সমাজে বিভাজন তৈরির লক্ষ্যেই এসব তৎপরতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্রাসেলসে ইইউ প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কালাস এসব মন্তব্য করেন। তিনি সদস্য দেশগুলোকে সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা ও নাশকতার বিরুদ্ধে আরও সতর্ক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
কালাস বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ইউরোপের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আরও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ইউরোপীয় সমাজে বিভাজন তৈরি করা এবং ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশগুলোর অবস্থান দুর্বল করা।
তাঁর মতে, সম্ভাব্য হামলা বা নাশকতা ঘটার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে ইউরোপীয় দেশগুলোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইউরোপে রুশ হাইব্রিড তৎপরতা মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্রাসেলসে ইইউর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বৈঠকে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা ও অন্যান্য হাইব্রিড হামলার ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ইইউ কাউন্সিলের বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ এবং হাইব্রিড হুমকির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও রাখা হয়েছে।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেছেন কালাস। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলেও ইউরোপের সামরিক সক্ষমতায় এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে। এসব ঘাটতি পূরণে বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ইইউর সাম্প্রতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইউরোপীয় নৌ-নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। কালাসের মতে, ইইউর অপারেশন অ্যাসপাইডিস পরিচালনার জন্য আরও যুদ্ধজাহাজ প্রয়োজন।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত এই অভিযানের আওতায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইইউ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপারেশন অ্যাসপাইডিসের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
ইইউর এই নৌ অভিযান মূলত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করছে।
ইউরোপে রুশ নাশকতার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা—দুই ইস্যুই একই সময়ে ইইউর প্রতিরক্ষা আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ায় ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন করে সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।