ক্যামেরার সামনে না এসেই মুখ ‘ভাড়া’ দিয়ে আয় করছেন চীনের মানুষ
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, নাটক ও গেমে ব্যবহারের জন্য নিজেদের মুখাবয়বের লাইসেন্স দিয়ে আয় করছেন চীনের সাধারণ মানুষ। ব্যবহারের ধরনভেদে মিলছে ৫০ থেকে ১ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক: ভারতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জরিমানা আদায়ে নতুন পদ্ধতি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বিবেচনা করে দেখতে বলেছেন আদালতের একটি বেঞ্চ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পরদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এ পরামর্শ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, শুধু ই-চালান জারি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; জরিমানার অর্থ বাস্তবে আদায় করাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ই-চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপির জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার কোটি রুপি আদায় হয়েছে। ফলে প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি এখনো অনাদায়ি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আদালত জরিমানা আদায়ের কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন। বিচারপতি পরদিওয়ালা বলেন, মানুষ স্বেচ্ছায় জরিমানা না দিলে বিকল্প উপায়ে তা আদায়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
আদালতের আলোচনায় বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি উঠে আসে। বেঞ্চের যুক্তি, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই ব্যবস্থার সঙ্গে ট্রাফিক জরিমানা যুক্ত করা গেলে মানুষ বকেয়া জরিমানা পরিশোধে উৎসাহিত হতে পারে।
তবে এটি এখনো কার্যকর কোনো সর্বভারতীয় নিয়ম নয়। আদালত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ করার বা সম্ভাব্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বকেয়া ই-চালান আদায়ে আদালত আরও কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনার কথা বলেছেন।
বকেয়া জরিমানা থাকা গাড়িকে Parivahan পোর্টালে চিহ্নিত বা কালোতালিকাভুক্ত করা।
জরিমানা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর বন্ধ রাখা।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সনদ নবায়নে বিধিনিষেধ আরোপ।
চালকের লাইসেন্স নবায়ন বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বিবেচনা।
ফিটনেস সার্টিফিকেট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া।
রাস্তায় আকস্মিক তল্লাশির মাধ্যমে বকেয়া জরিমানা থাকা গাড়ি শনাক্ত করা।
প্রয়োজন হলে বকেয়া জরিমানা থাকা গাড়ি জব্দের ব্যবস্থা বিবেচনা করা।
আদালতের আলোচনায় মূল বিষয় ছিল—ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় ই-চালান জারি করার পাশাপাশি জরিমানার অর্থ যাতে বাস্তবে আদায় করা যায়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।