ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে ২৫৭ হামলা, ৭০০ নিহতের দাবি
ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২৫৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম হলেও দেশটির সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মতো চরম ঝুঁকির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম হলেও সরকারের দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য সব ঝুঁকি বিবেচনায় রাখা।
সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে ‘এক্সট্রিম টেইল রিস্ক’ বা অত্যন্ত বিরল কিন্তু গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো সম্ভাব্য বা প্রত্যাশিত পরিস্থিতি নয়; তবে এমন ঝুঁকির জন্য প্রস্তুতি না নেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয় হবে না।
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য বিরোধ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে চাপের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে অর্থনৈতিক চাপের কথা বলেছিলেন।
কার্নি জানান, এই পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণেই তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর বিষয়েও কাজ করছে। প্রযুক্তি, মহাকাশ যোগাযোগ ও সামরিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদার। দুই দেশই ন্যাটোর সদস্য এবং উত্তর আমেরিকার আকাশ ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় যৌথভাবে কাজ করে। নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড বা নোরাডের আওতায় দুই দেশ সমন্বিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এই বাস্তবতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কানাডার সামরিক মহলেও এমন পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য বা স্বাভাবিক কোনো দৃশ্যপট হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
কার্নিও তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন করা হয়েছে মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে; এটি কানাডার জন্য কোনো ‘বেস কেস’ বা প্রত্যাশিত পরিস্থিতি নয়।
কানাডার সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়লেও তা সরাসরি সামরিক হামলায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সাইবার হামলা, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা অন্যান্য অপ্রচলিত পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন হতে পারে।
কার্নির সাম্প্রতিক অবস্থানও শুধু সামরিক প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কানাডার নিজস্ব সক্ষমতা ও বিকল্প অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বর্তমানে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ইতিহাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত হয়েছে। ১৭৭৫ সালে আমেরিকান বাহিনী তৎকালীন ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। পরে ১৮১২ সালের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার প্রভাব বর্তমান কানাডার ভূখণ্ডেও পড়ে।
তবে সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো—দুই দেশ এখন দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার এবং একই প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য।
কানাডা একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশটির ওপর কানাডার নির্ভরতা রয়েছে। কার্নি সরকার সেই নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
ফলে কানাডার সাম্প্রতিক প্রস্তুতিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এবং ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত কম সম্ভাবনার ঝুঁকিগুলোও জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিবেচনায় নেওয়ার নীতি হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে অটোয়া।