নেপালের ‘কিডনি ভ্যালি’র ক্ষত, সীমান্ত পেরিয়ে নতুন অঙ্গ পাচারের অভিযোগ
নেপালের কুখ্যাত ‘কিডনি ভ্যালি’র পুরোনো ক্ষত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই চাকরির প্রলোভনে নেপাল-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে কিডনি পাচারের নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। যদি আইন বহির্ভূতভাবে বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে আদালত তা বাতিল করে দিতে পারে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা।
একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই মামলার সূত্রপাত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি এবং নতুন ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ‘ছয় নম্বর ফরম’ (Form 6)-এর শর্তে পরিবর্তন আনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত বা সম্মতি যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। গত প্রায় ১০ মাসে এ বিষয়ে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন ভোটারদের ছয় নম্বর ফরমে পূর্বপুরুষদের তথ্য চাওয়ার বিষয়টি এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এককভাবে বা অন্য কমিশনারদের মতামত ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকেও এই নোটিশে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্ত নথি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, তিন সদস্যের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো সিদ্ধান্ত হয় সর্বসম্মতভাবে, নতুবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নিতে হবে। তবে কেবল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এখনই কোনো অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না বলে আদালত জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শোনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া মামলাকারীদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত তা সরাসরি গ্রহণ করেনি।
আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে নির্বাচন কমিশনকে আদালতের নোটিশের জবাব দাখিল করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নজরদারি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।