সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদ ভবন: একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিরোধী দলকে কেবল অন্ধ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে বরং অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের…
ঢাকা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অনভিপ্রেত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় কেবল তদন্ত কমিটি গঠন বা দায়সারা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) টিআইবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী—কোনো পক্ষই এই সহিংসতার রাজনৈতিক দায় এড়াতে পারে না। হামলায় সরাসরি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতর প্রয়োজনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের বেপরোয়া ও সহিংস আচরণের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই হামলা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতাকে প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ক্ষয়ের এক বৃহত্তর চিত্র বলে অভিহিত করেছে টিআইবি। উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের অযৌক্তিক দাবি, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি ও পেশিশক্তির মহড়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকেই উলঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
সংস্থাটির মতে, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি পেশ করার অধিকারকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা উচিত। তবে বলপ্রয়োগ বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদত্যাগের দাবি আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষার্থীদের একাংশকে ক্ষমতাধর হতে দিয়ে প্রশাসন ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার নিরপেক্ষ কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের অজুহাত দিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই তাদের দলীয় পরিচয়ের আড়ালে সুরক্ষাকবচ বা ছাড় না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের দলীয় প্রভাব ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে কঠোর হাতে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।