দিল্লিতে দীনেশ ত্রিবেদী, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
হঠাৎ রাতে দিল্লি গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার খবর।
ঢাকা: শিশুদের নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের উপযুক্ত সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও অনেক বেশি মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি একটি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক ও সাবলীল বিকাশের ওপর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আয়োজনটি মূলত শিশুদের নিয়ে, তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শুনাই হওয়া উচিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এ সময় নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর গোড়ার দিকে তিনি নিজেও একজন শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত স্মারক বোর্ডে নিজের ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশের স্মৃতি দেখতে পেয়ে আনন্দিত হন তিনি।
শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো বিশেষ গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ।” নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা স্মরণ করে তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, যারা বাদ্যযন্ত্র বাজানো, গান, নাচ কিংবা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তারা যেন সেগুলোতে নিজেদের দক্ষতা পরিপূর্ণভাবে রপ্ত করে।
শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারা দেশে ২২ লাখ শিশু—যার মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশব্যাপী ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমান সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই সুবিধা তৈরির কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো গান, বাদ্যযন্ত্র বা খেলাধুলার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।”
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপযোগী করে তুলতে স্কুল পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখার পরিকল্পনার কথা জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চাইলে আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ভাষণের শেষাংশে শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাড়ি বা স্কুলের আশপাশের গাছের পরিচর্যা করতে হবে এবং পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি এই দায়িত্বশীল মানসিকতাই একটি মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।