সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামে নববধূর বিরুদ্ধে পরকীয়ার প্রেমিকের সহায়তায় কৌশলে স্বামী আব্দুল করিমকে (২৫) গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল করিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত নববধূকে আটক করেছে।
নিহত আব্দুল করিম ওই গ্রামের নবী মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ, নিহত আব্দুল করিমের বাবা নবী মণ্ডল ও মামা ইদ্রিস আলী জানান, মাত্র এক মাস আগে আব্দুল করিম পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের ওই তরুণীকে (১৯) বিয়ে করেন। বিয়ের আগে থেকেই তরুণীর প্রতিবেশী সিএনজি চালক নূর আলম নাহিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত সপ্তাহে নববধূ বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে প্রেমিক নাহিদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং এরপর দুজনে মিলে করিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রেমিক নাহিদ নববধূকে গ্যাস ট্যাবলেট কিনে দেন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নববধূ বাড়ির সবাইকে কৃমির ট্যাবলেট খেতে দেন। কৌশলে কৃমির ওষুধ বলে তিনি স্বামী আব্দুল করিমকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ান।
গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আব্দুল করিমের পেটে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং তিনি চিৎকার করতে থাকেন। পরিবারের লোকজন প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসা দিলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সব শেষে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নন্দলালপুর নিজ বাড়ি থেকে করিমের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নববধূকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নববধূ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আছলাম আলী জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা নবী মণ্ডল বাদী হয়ে নববধূ ও প্রেমিক নূর আলম নাহিদকে আসামি করে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।