ধামরাই, ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে এক মুসলিম গৃহবধূ (২৫) ভয়াবহ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামের একটি হিন্দু বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পাশাপাশি ওই গৃহবধূর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে তার প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাইয়ের পাবরাইল এলাকার ‘এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্ম’-এর গাড়ি চালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান। সাথে ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী ও রামরাবন গ্রামের ফণি চন্দ্র মনিদাসের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র মনিদাস।
সারাদিন ঘোরার পর সন্ধ্যার দিকে কৃষ্ণ চন্দ্র তার সহকর্মী রাজ্জাক ও তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌষ পার্বণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান দেখে রাত হয়ে যাওয়ায় কৃষ্ণ চন্দ্রের বোন শান্তি রানী মনিদাসের বাড়িতে তাদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে ৫-৭ জন হিন্দু যুবক চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করে। তারা চালক আব্দুর রাজ্জাককে খুটির সাথে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এরপর রাজ্জাকের সামনেই তার স্ত্রীকে সারারাত ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই হিন্দু যুবকরা। এ সময় গৃহবধূর কানের দুল, গলার চেইন ও হাতের বালাসমেত সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ লুট করে তারা।
শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগীরা বালিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মন্টু চন্দ্র মনিদাসের কাছে ঘটনার বিচার দাবি করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিচার পাওয়ার বদলে স্থানীয় সজীব চন্দ্র মনিদাসসহ একদল উশৃঙ্খল যুবক উল্টো ওই দম্পতিকে লাঠিপেটা করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সমাজে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাস বলেন, “আমি ওই বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাইনি। এমনকি অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
অন্যদিকে ধামরাই থানার এএসআই হারাধন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, “আমি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি, কিন্তু ভিকটিম বা অভিযুক্ত কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
নিগৃহীত ওই পরিবারটি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে বা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।