ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার খেলবে জামাল ভুঁইয়ারা
জুন উইন্ডোতে ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বাফুফের ঐতিহাসিক দাবি নিয়ে বিতর্কের মাঝে এই সফরের খুঁটিনাটি পড়ুন।
ক্রীড়া প্রতিবেদক: ফুটবল বিশ্বে ‘এল ক্লাসিকো’ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তবে এবারের দ্বৈরথটি ছিল শুধু মর্যাদার লড়াই নয়, বরং লিগ শিরোপা নির্ধারণের এক মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৩২ সালের দীর্ঘ ৯৪ বছর পর আবারও লিগ নির্ধারণী ক্লাসিকোর সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে লা লিগার ২৯তম শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা।
মৌসুমের শেষ ক্লাসিকোতে নামার আগে বার্সার সমীকরণ ছিল সহজ—ড্র করলেই শিরোপা। কিন্তু ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা যেন পয়েন্ট ভাগাভাগির ধার ধারেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালকে চেপে ধরে কাতালানরা।
৯ মিনিটে ম্যাজিক: ফ্রি-কিক থেকে চোখ ধাঁধানো গোলে ৯ মিনিটেই বার্সাকে এগিয়ে নেন মার্কাস রাশফোর্ড।
১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ: দানি ওলমোর দারুণ এক ব্যাক-হিল থেকে বল পেয়ে ফেরান তোরেস বার্সার দ্বিতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচের বাকি সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ গোল শোধের চেষ্টা করলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুপস্থিতি স্পষ্ট বোঝা গেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা করলেও বার্সার হাই-লাইন ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হন। উল্টো মেজাজ হারিয়ে তর্কে জড়াতে দেখা যায় এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া পাঁচটি অসাধারণ সেভ না করলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো রিয়ালের।
পয়েন্ট টেবিলের চিত্র:
এই জয়ের পর ৩৫ ম্যাচে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৯১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ সমান ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট। লিগে হাতে আরও তিনটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও ১৪ পয়েন্টের ব্যবধানে থাকায় বার্সার শিরোপা জয় এখন গাণিতিকভাবে নিশ্চিত।
হান্সি ফ্লিকের মানবিক ও পেশাদার জয়:
ম্যাচের অন্যতম আবেগঘন দিক ছিল কোচ হান্সি ফ্লিকের উপস্থিতি। সকালে বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। গোল করার পর রাশফোর্ড ও তোরেসের কোচের কাছে ছুটে যাওয়া ছিল এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফ্লিকের অধীনে দুই মৌসুমে এটি বার্সার পঞ্চম শিরোপা।
বিপর্যস্ত রিয়াল মাদ্রিদ:
অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীন কাটাল রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠের খেলায় খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কোচ আরবেলোয়ার অধীনে জয়ের স্পৃহার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। এই হারের পর রিয়ালের কোচ পদে পরিবর্তন আসার গুঞ্জন আরও জোরালো হলো।
উৎসবের ক্যাম্প ন্যু:
ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে ৬০ হাজার দর্শকের ‘চ্যাম্পিয়নস, চ্যাম্পিয়নস’ কোরাসে প্রকম্পিত হয় ক্যাম্প ন্যু। লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও জুলস কুন্দেরা একাদশে না থাকলেও ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সাথে উৎসবে মেতে ওঠেন। লিগ ট্রফি হাতে বার্সেলোনার এই জয় ফুটবলের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ক্লাসিকো হিসেবেই জায়গা করে নিলো।