আসনে হার চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা, সিআইডি দপ্তরে সাড়ে ৬ ঘণ্টা অভিষেক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে অভিষেককে জেরা সিআইডির।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবার চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় ধাপের’ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্রান্সের অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের আলোচনাটি তুলনামূলক সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদী। তেহরানের পক্ষ থেকেও এই অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি ও পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। এই চুক্তির আওতায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
পরবর্তী ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের মতো জটিল বিষয়গুলো স্থান পাবে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করবে না।
চলমান এই ইতিবাচক বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অনবরত আগ্রাসন এই শান্তিচুক্তির স্থায়িত্বকে বড় ধরনের শঙ্কার মুখে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল এবং এর মাত্র দুই দিন পর লেবাননেও ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
প্রায় ছয় সপ্তাহ পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব সম্মুখসারিতে যুদ্ধ বন্ধের স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে, তাই ইসরায়েল যদি লেবাননে পুনরায় হামলা চালায় তবে তা সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একরোখা আচরণ ও যুদ্ধংদেহী নীতি নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে মূলত নেতানিয়াহু সরকার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর পথকে কঠিন করে তুলছেন। নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে না থাকলে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না, কারণ ইসরায়েলের সুরক্ষায় তিনি যা করেছেন তা অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনো করতে রাজি হতেন না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কঠোর সমালোচনার জবাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য কূটনৈতিক বিরোধ এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু জানান যে, কিছু কিছু কৌশলগত বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির অমিল থাকতেই পারে, তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব সর্বোচ্চ দায় রয়েছে এবং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গেই তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
অন্যদিকে, জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সিরিয়ার বর্তমান দূরদর্শী ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন হিজবুল্লাহর বিষয়টি সামলাতে ইসরায়েলের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং তিনি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন হিজবুল্লাহর বিষয়টি আহমেদ আল-শারাকে সামলাতে দেওয়া হয়, যাতে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু বন্ধ করা সম্ভব হয়।