বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ আসছে পৃথিবীতে: জ্বালানি সংকটের সমাপ্তি কি তবে আসন্ন?

কল্পবিজ্ঞানকেও হার মানাল বাস্তব। জলবায়ু পরিবর্তন আর জ্বালানি সংকটে জর্জরিত বর্তমান বিশ্বকে বাঁচাতে এবার সরাসরি মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ আনার ঐতিহাসিক প্রযুক্তি সফলভাবে পরীক্ষা করেছে বিজ্ঞানীরা। আর কোনো কয়লা, গ্যাস বা তেলের ওপর নির্ভরতা নয়—এবার দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সবুজ শক্তি মিলবে সরাসরি সূর্য থেকে, যা বদলে দেবে আমাদের চেনা পৃথিবীর চাক্ষুষ রূপ।

কৃত্রিম উপগ্রহ যখন পাওয়ার প্ল্যান্ট

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ দল পৃথিবীর কক্ষপথে বিশেষ ধরণের ‘সোলার পাওয়ার স্যাটেলাইট’ বা সৌর বিদ্যুৎ উপগ্রহ স্থাপন করেছে। এই উপগ্রহগুলো মহাকাশে বিশাল আকৃতির আয়নার সাহায্যে কোনো মেঘ, বৃষ্টি বা রাতের অন্ধকার ছাড়াই অবিরাম সূর্যালোক সংগ্রহ করবে। এরপর সেই সংগৃহীত শক্তিকে ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা অদৃশ্য তরঙ্গে রূপান্তরিত করে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভিং স্টেশনে পাঠানো হবে।

সেখান থেকে এই তরঙ্গ নিমেষেই সাধারণ বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়ে যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে।

কেন এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চমক?

  • ২৪ ঘণ্টার সূর্যলোক: পৃথিবীতে রাত হলেও মহাকাশে সূর্য কখনো ডোবে না। ফলে এই প্রযুক্তিতে কোনো পাওয়ার স্টোরেজ বা ব্যাটারির ঝামেলা ছাড়াই অবিরাম বিদ্যুৎ মিলবে।

  • শূন্য কার্বন নিঃসরণ: এই প্রক্রিয়ায় কোনো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় না। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে এটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

  • দুর্গম অঞ্চলেও আলো: কোনো তার বা খুঁটি ছাড়াই পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম দ্বীপ, মরুভূমি বা দুর্যোগকবলিত এলাকায় সরাসরি মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রযুক্তির একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল মহাকাশ থেকে পাঠানো তরঙ্গের নিরাপত্তা এবং বিপুল নির্মাণ খরচ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের (Reusable Rockets) কল্যাণে এখন মহাকাশ ভ্রমণ ও যন্ত্রাংশ পাঠানোর খরচ প্রায় ৯০% কমে এসেছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

“আমরা এতদিন পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে সূর্যের আলো খুঁজেছি। এখন সময় এসেছে মহাকাশেই সূর্যের মুখোমুখি হওয়ার। এটি কেবল একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, এটি মানব সভ্যতার টিকে থাকার নতুন চাবিকাঠি।” — ড. এলিসা মার্টিন, প্রধান গবেষক, গ্লোবাল এনার্জি ইনিশিয়েটিভ।

বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিগুলো ইতিমধ্যেই এই ‘স্পেস সোলার প্রজেক্ট’-এ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই হয়তো তেলের খনি বা গ্যাস সিলিন্ডারের দিন ফুরিয়ে আসছে, আর পৃথিবী প্রবেশ করতে যাচ্ছে এক সম্পূর্ণ নতুন ‘মহাজাগতিক জ্বালানি’র যুগে।

Related News

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন: ১২ জুন মেটার সার্ভারে বড় বিপর্যয়, ভোগান্তিতে লাখ লাখ ব্যবহারকারী

বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের সার্ভারে বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাট। ১২ জুন বিকেল থেকে লগ-ইন ও ফিড রিফ্রেশে সমস্যা। ইজডাউন ও ইনিল্যাড-এর তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন।

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: মেটাকে ২৪ ঘণ্টায় কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করছে সরকার

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বড় ঘোষণা। এআই-এর অপব্যবহার ও গুজব রুখতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন, অনলাইন জুয়া ও মাদক আইনের আমূল পরিবর্তনের খসড়া অনুমোদন। বিশেষ সম্পাদকীয়।

ফেসবুক জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের ওপরে তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোশ্যাল ব্ল্যাডের সেরা ১০০ ফেসবুক ক্রিয়েটরের তালিকায় ৬৩তম হয়েছেন। ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে থাকা তাঁর ডিজিটাল এনগেজমেন্টের বিস্তারিত জানুন।

চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন চালু করছে ওপেনএআই

ওপেনএআই চ্যাটজিপিটির ফ্রি ও ৮ ডলারের গো সাবস্ক্রিপশনে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরীক্ষা শুরু করেছে। কথোপকথনের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন আসার বিস্তারিত তথ্য জানুন।

চাঁদ মিশনে সময় এগিয়ে আনল নাসা, ফেব্রুয়ারিতেই আর্টেমিস ২

চীনকে পেছনে ফেলতে নাসা নভোচারীসহ আর্টেমিস ২ মিশন উৎক্ষেপণের সময় এগিয়ে এনেছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৭ সালে আর্টেমিস ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে

অনারের নতুন ফোন ‘প্লে ১০’ বাজারে, দাম ১০,৯৯৯ টাকা

অনার বাংলাদেশে Android Go OS সহ Honor Play 10 মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে। এতে আছে ৫০০০ mAh ব্যাটারি, ৪ GB র‍্যাম, ১২৮ GB স্টোরেজ এবং দাম ১০,৯৯৯ টাকা।

অস্ট্রেলীয়দের যুগান্তকারী আবিষ্কার: বায়োনিক চোখে ফিরবে অন্ধদের দৃষ্টি

অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের তৈরি \’জেনারিস\’ নামের বিশ্বের প্রথম বায়োনিক চোখ সরাসরি মস্তিষ্কে সিগনাল পাঠিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটি অন্ধত্বের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তায় বিপ্লব: পাসওয়ার্ডের বদলে ফিঙ্গারপ্রিন্টেই সুরক্ষিত চ্যাট ব্যাকআপ

হোয়াটসঅ্যাপ আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য পাসকি এনক্রিপশন সুবিধা নিয়ে এসেছে। এখন থেকে পাসওয়ার্ডের বদলে বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি) ব্যবহার করে চ্যাট ব্যাকআপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সক্রিয় করা যাবে, যা ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ধাপ।

Search