বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শীর্ষ বৈঠক ও শ্রমবাজার উন্মুক্তের আহ্বান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। সাশ্রয়ী ও সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার এবং আসিয়ান পার্টনারশিপের ওপর জোর।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় দুই দিনের অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ সরকারি সফর সমাপ্ত করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে চীনের দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দালিয়ানে পৌঁছালে বাংলাদেশের নতুন সরকার প্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে হোটেল ‘শাংগ্রি-লা’তে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরে তিনি এখানে দুই দিন অবস্থান করবেন। এর আগে, মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল পাঁচটায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর, যার প্রথম গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর একান্ত ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দালিয়ানে দুই দিনের অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সভায় (যা বৈশ্বিকভাবে ‘২০২৬ সামার দাভোস ফোরাম’ নামে পরিচিত) অংশ নেবেন। এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে নতুন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন তিনি।
দালিয়ানের কর্মব্যস্ত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন। বেইজিংয়েই মূলত চীনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কৌশলগত ও দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হবে, যেখানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তথা ‘সোনালি ৫০ বছর’-এ প্রবেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম চীন সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ সফর অতীত অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পথরেখা নির্ধারণে গভীর গুরুত্ব বহন করে।
চীনের বেইজিং ও দালিয়ানে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক মিশন শেষে আগামী ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।