চীনের সাথে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই ধন্যবাদ জানান। একই সাথে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদলের এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বর্তমান সংসদ হচ্ছে মজলুম ও সাধারণ মানুষের সংসদ। তাই এখানে এমন কোনো আচরণ করা সমীচীন হবে না, যা দেশের সাধারণ মানুষকে কোনোভাবে আঘাত করে।” সংসদকে কার্যকর করতে সরকারি ও বিরোধী দলের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দলের যেমন বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে, ঠিক তেমনি যুক্তিসঙ্গত সকল ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা রাখা প্রয়োজন।
সংসদের অতীত সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, অতীতে এই সংসদ শুধু ব্যক্তিতোষামোদির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সংসদকে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং অতীতের সেই তোষামোদির সংস্কৃতিকে ‘না’ বলতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বাজেটের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত হচ্ছে কি না কিংবা কোথাও জনগণের ক্ষতি হচ্ছে কি না—সেদিকে বিরোধী দল সবসময় কড়া নজর রাখবে।
অর্থ পাচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে গেলেও তা কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তিনি দাবি করেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা সম্ভব হলে বাজেটে কোনো ঘাটতিই থাকবে না। শুধু অর্থ ফেরত আনাই নয়, এর পাশাপাশি যারা অর্থ পাচারের সাথে জড়িত, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।