রিমান্ডে সত্যতা স্বীকার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের
শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। অপরাধ সংবাদ।
বগুড়া: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়া আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পুনরায় ঢাকার ওই হাসপাতালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তানভীরের আইনজীবী ও এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী জানান, তানভীর অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ। তার কোমর থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেছে এবং তিনি বর্তমানে শয্যাশায়ী অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন।
আইনজীবী অভিযোগ করেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তানভীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। রিমান্ডে থাকা ও কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার কোমর থেকে নিচের অংশ অবশসহ বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিয়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে সাধারণত আদালতে সময় চাওয়া হলেও, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং ধার্য তারিখে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ঝুঁকি নিয়েই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরীপাড়া থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে ১০ আগস্ট আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড ও কারাবাসের সময় ব্রেন স্ট্রোক, প্যানিক ডিজঅর্ডার ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের মতো জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কারাকর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তাকে এক বছরের জামিন প্রদান করলে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন এবং তখন থেকেই ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।