জনগণের স্বস্তি ফেরাবে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: এবারের বাজেটকে অত্যন্ত সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের…
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় বেতন কাঠামো’ বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এই বড় উদ্যোগটি বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে যাচ্ছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও কারিগরি দিক: নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প বা অপশন বিবেচনা করেছিল সরকার।
৩ বছরের পরিকল্পনা: প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে ভাতাগুলো কার্যকর করা।
২ বছরের পরিকল্পনা: তবে অর্থ বিভাগের মতে, দুই ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিতে (iBAS++) কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই তারা এক দফায় পুরো মূল বেতন কার্যকর করার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে কমিটি দুই ধাপে এটি বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী দেবেন। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহেই বহুল প্রতীক্ষিত এই গেজেট আলোর মুখ দেখবে।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার: দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর সাম্প্রতিক বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই স্কেলে বেতন পাওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে ২০১৫ সালেও দুই ধাপে (প্রথমে মূল বেতন ও পরে ভাতা) অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।