সহপাঠীকে হত্যায় কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ
বরিশাল নগরীতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে সহপাঠী আবিরকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ৯ বছর পর মিরাজুল ইসলাম স্বর্ণামতকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন শিশু আদালত।
মো: জিয়াউদ্দিন বাবু। বরিশাল ব্যুরো
বরিশাল নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক পোর্ট রোড। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে পোর্ট রোডের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়ন কাজ চললেও কাজের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পোর্ট রোডের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পাশাপাশি ধুলাবালি, কাদা ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পথচারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের সুবিধার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও কাজের গতি দেখে অনেকেই হতাশ। একদিকে রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে ধীরগতিতে, অন্যদিকে নির্মাণকাজের কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পোর্ট রোডের বিভিন্ন অংশে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কোথাও রাস্তার অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে, কোথাও নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে সড়কের প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পণ্যবাহী যানবাহন, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি একই সড়ক ব্যবহার করায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে রাস্তার উন্নয়নকাজ যুক্ত হওয়ায় অনেক সময় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি থেমে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার উন্নয়নকাজের কারণে তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রেতাদের দোকানে আসতে সমস্যা হচ্ছে। ধুলাবালি ও কাদার কারণে দোকানের সামনে পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। পণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
পোর্ট রোডের উন্নয়নকাজ চলাকালে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খোঁড়াখুঁড়ি করা অংশে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ। পথচারীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে গিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়।
অনেক সময় যানবাহনও কাদায় আটকে পড়ে। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে কর্মঘণ্টায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের অর্থে এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে, তাহলে কেন কাজের গতি এত ধীর? দ্রুত কাজ শেষ করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘ সময় ধরে একই ভোগান্তি কেন বহন করতে হবে?
শুধু উন্নয়নকাজের ধীরগতিই নয়, পোর্ট রোডের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটপাত দখল। রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতের বড় একটি অংশ হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না।
ফুটপাতের ওপর বিভিন্ন ধরনের পণ্য, দোকানের সামগ্রী ও অস্থায়ী স্থাপনা বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যানবাহনের গতি কমছে, অন্যদিকে পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। ফলে পথচারীদের দুর্ভোগ থেকেই যায়।
পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারা এবং রাস্তার একাংশ উন্নয়নকাজের জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় পোর্ট রোডে যানজটের চাপ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
সড়কের ওপর দিয়ে পথচারীদের চলাচলের কারণে যানবাহনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে ফুটপাত থাকার মূল উদ্দেশ্যই হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা। কিন্তু ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
উন্নয়নকাজ চলার সময় নির্মাণসামগ্রী কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সড়কের পাশে ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হলে চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।
নগরবাসীর দাবি, উন্নয়নকাজ চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বিকল্প ও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখা জরুরি। রাস্তা খোঁড়ার পর সেটি দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে দ্রুত পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করা এবং নির্মাণসামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
পোর্ট রোডের উন্নয়নে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রকল্প থেকে নগরবাসীর প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তারা চান, শুধু রাস্তা সংস্কার নয়—দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও জনবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।
নগরবাসীর প্রশ্ন, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তার স্থায়িত্ব কতটা নিশ্চিত করা হবে? কাজের মান ঠিক রাখা হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে কি না—এসব বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
কারণ জনগণের করের টাকা এবং সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পোর্ট রোডের উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।