যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ! বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সুদের হার বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ও মার্কিন ঋণ সংকট নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই শতকোটি মানুষের পারস্পরিক উন্নয়ন, শান্তি ও সামাজিক অগ্রগতির মূল অনুঘটক হিসেবে গঠিত হয়েছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)। সার্কের বিদায়ী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য সাক্ষাৎ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুদৃঢ় এবং অবিচল অঙ্গীকারকে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে দৃশ্যমান করেছে। সাক্ষাৎকালে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কত্ব এবং উদ্যোগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
একই সাথে বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ককে আরও গতিশীল, কার্যকরী ও সরাসরি জনকেন্দ্রিক সংস্থায় রূপান্তরের যে রূপকল্প তুলে ধরা হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে বিগত কয়েক বছরে সার্কের কার্যক্রমে যে ধীরগতি দেখা গিয়েছিল, তা অতিক্রম করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক মন্দার মতো সমস্যাগুলো প্রায় অভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত যথার্থভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, নিয়মিত সংলাপে অংশ নেওয়া এবং কার্যকর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমেই এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।
বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাস, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন দক্ষিণ এশিয়ার বাজারকে সমৃদ্ধ করবে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অন্যতম মূল ঝুঁকি হলো পরিবেশগত বিপর্যয়। সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং জলবায়ু সহনশীলতা ভিত্তিক যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য ও পরিবেশ নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন খাতে অবাধ ভিসা নীতি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুবিধা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, এই সংস্থাটির মূল অবকাঠামোগত ভিত্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদায়ী মহাসচিবের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে সচল রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সার্ক কেবল নথি বা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক বিরাট সম্ভাবনা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়াশীল কূটনীতির বদলে সক্রিয় ও জনকেন্দ্রিক যে দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করা হয়েছে, তা সার্কের চেতনায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
আশা করা যায়, সব সদস্য রাষ্ট্র আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পুনরারম্ভ এবং সংস্থাটির কার্যকারিতা বাড়াতে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।