জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন জাহিদ আহসান
: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জাহিদ আহসান। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আহসান লাবিব।
ঢাকা: দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল। এই কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে দলের মহাসচিব পদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ‘সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব’ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলের ভেতরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সাংগঠনিক সংস্কারের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবেই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের শূন্য পদটি পূরণ করা হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য দলের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও নেতাকর্মীদের মুখে মুখে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড বা শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, কাউন্সিলের তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি এবং দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সঠিক সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাউন্সিল সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। একই সুর শোনা গেছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের গলাতেও।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক সদস্য ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী জানিয়েছেন, মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কারণেই জাতীয় কাউন্সিলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। চলতি বছরে কাউন্সিলের সম্ভাবনা কম থাকলেও আগামী বছরের (২০২৭) প্রথম দিক অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসকে টার্গেট করে প্রস্তুতি চলছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময়ে বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি হবে এবং অনুকূল শীতকাল হওয়ায় কাউন্সিলকেন্দ্রিক বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করার পর এখন বিএনপির সামনে প্রধানত দুটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—প্রথমত, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি; এবং দ্বিতীয়ত, সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন করা।
উল্লেখ্য, বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর নিয়মিত কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও নানা রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিকূলতার কারণে এক দশকেও তা করা সম্ভব হয়নি। যদিও এই দীর্ঘ সময়ে নির্বাহী কমিটিতে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে এবং পদোন্নতি বা রদবদল হয়েছে। তবে এবারের কাউন্সিলে পুরো দল নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।