জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন জাহিদ আহসান
: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জাহিদ আহসান। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আহসান লাবিব।
ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি (সেনানায়ক) জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি (এমএজি) ওসমানীর জন্মবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনী অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে এই দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ লজ্জিত ও মর্মাহত। জাতির কাছে আমি ক্ষমা চাই, কারণ আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়কের প্রতি যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারিনি।’
গত ১ সেপ্টেম্বর জেনারেল এমএজি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী ছিল উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ওই দিন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর মনে হয়েছে—‘এই দেশে যেন জেনারেল ওসমানী নামে কোনো মানুষের জন্মই হয়নি।’ গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যম থাকা সত্ত্বেও জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে কোথাও কোনো সংবাদ বা বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়নি। টকশোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও এই জাতীয় বীরকে স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা কেউ অনুভব করেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তথ্যমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত না থাকায় এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
জেনারেল ওসমানীর অবদানের কথা স্মরণ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় খেমেকারণের যুদ্ধে পাকিস্তান রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ও নেতৃত্ব ছিল অতুলনীয়। আর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব ও অবদানের কথা বলতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি কারও দয়ায় নয়। বাঙালি হওয়ার কারণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যাঁকে পদোন্নতি দেয়নি, সেই দেশপ্রেমিক মানুষটিই সংকটকালে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান কমান্ড গ্রহণ করেছিলেন।’
জেনারেল ওসমানীকে একজন অত্যন্ত নিরহংকার, সৎ ও সাহসী মানুষ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইতিহাসে এমন বিরল ব্যক্তিত্ব খুব কমই জন্ম নিয়েছেন।
স্কুল বা বাচ্চাদের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করে নিজে তা যাচাই করেছেন জানিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, স্কুলপর্যায়ের কোনো পাঠ্যপুস্তকেই জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে একটি লাইনও নেই। এটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি সুদূর প্রসারী ‘ষড়যন্ত্র’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে, স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সংসদ সদস্য দাবি জানান যে, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বাধ্যতামূলক করা হোক এবং তাঁর জীবন ও বীরত্বপূর্ণ অবদান পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যেন সংসদ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।