জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন জাহিদ আহসান
: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জাহিদ আহসান। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন আহসান লাবিব।
ঢাকা: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানান তারা।
সংসদে এই দাবি উত্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন এবং একই দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার।
সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি লোমহর্ষক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় এক নারী শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতার মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে দিনেদুপুরে ছিনতাই এবং যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে হত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব বাড়ার কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি ও নানা অপরাধ ঘটিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করে উল্টো অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেই পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার কথা তুলে ধরে তিনি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্ততার তীব্র সমালোচনা করেন।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান বা প্রয়োজনে অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ কঠোর অভিযান পরিচালনা করে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পথচারীদের চলাচলের জন্য তৈরি ফুটপাতগুলো আজ প্রভাবশালী চক্রের দখলে চলে গেছে। ফুটপাতে অবৈধ দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।
ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা নিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সূত্র দিয়ে তিনি জানান, কোনো কোনো এলাকায় কেবল একটি চায়ের দোকান বসানোর জন্যই ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য দোকানের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি যেন বর্তমানে সমাজের এক সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি এর সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।