এমবাপ্পে-মেসিকে পেছনে ফেলে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন লামিন ইয়ামাল
রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে ও মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব ফুটবলে ৫০ গোলের রেকর্ড গড়লেন বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল।
ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা বা ‘GOAT’ কে—এই বিতর্কের যেন কোনো শেষ নেই। ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের এই আলোচনায় সরাসরি কোনো বাকবিতণ্ডায় না গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সাফল্যের ‘রসিদ’ বা বিলের আদলে তৈরি প্রতীকী পোস্ট দিয়ে এর অভিনব জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই ব্যতিক্রমী পোস্টটি প্রকাশের পরই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণ কোনো ছবি বা দীর্ঘ ক্যাপশনের পরিবর্তে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অর্জনগুলোকে একটি রেস্তোরাঁর বিল বা কেনাকাটার রসিদের মতো করে সাজিয়েছেন মেসি। ওই প্রতীকী রসিদে একের পর এক ‘আইটেম’ হিসেবে স্থান পেয়েছে তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো স্মরণীয় মুহূর্ত এবং জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ সব শিরোপা। নতুন এক ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে তৈরি এই তালিকার একেবারে শেষে রাখা হয়েছে সেই আলোচিত বার্তা—‘GOAT debate—settled’ অর্থাৎ সেরা কে, সেই বিতর্কের এখানেই সমাপ্তি।
প্রকাশিত সেই প্রতীকী বিলে বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক অর্জনের খতিয়ান। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের অবিস্মরণীয় ফিফা বিশ্বকাপ জয়, একাধিক কোপা আমেরিকা শিরোপা, অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং ফিনালিসিমা জয়ের তথ্য। একই সঙ্গে দেশের হয়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে অনুপ্রাণিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে সেই রসিদে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির এই পথচলা অবশ্য সবসময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের বেদনা এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে টানা ব্যর্থতার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে চিলির বিপক্ষে হারের পর অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সব হতাশা ও সমালোচনা পেছনে ফেলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন এই ফরোয়ার্ড।
২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৮ বছরের আন্তর্জাতিক শিরোপাখরা কাটে আলবিসেলেস্তাদের। আর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে পূরণ হয় মেসির আজীবনের স্বপ্ন। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ফাইনালে জোড়া গোলসহ টাইব্রেকারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৩৬ বছর পর দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এনে দেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রেখে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও সুদৃঢ় করেন মেসি। ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৩৪ ম্যাচে ২১ গোলসহ অসংখ্য রেকর্ডের মালিক এখন তিনি।
সব বাধা ও ব্যর্থতা পেরিয়ে হতাশা থেকে প্রত্যাবর্তন এবং সমালোচনাকে পেছনে ফেলে কিংবদন্তির আসনে পৌঁছে যাওয়ার সেই বর্ণাঢ্য যাত্রাকেই এবার ভিন্নধর্মী এক ‘রসিদে’ বন্দি করলেন এলএমটেন। রসিদের শেষে কোনো বকেয়া বা বিলের অঙ্ক না থাকলেও রয়েছে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ার এক অনন্য বার্তা।