এমবাপ্পে-মেসিকে পেছনে ফেলে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন লামিন ইয়ামাল
রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে ও মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব ফুটবলে ৫০ গোলের রেকর্ড গড়লেন বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল।
খেলাধুলা: ব্যাট হাতে রান না পাওয়ার সব ক্ষোভ যেন বল হাতে উগড়ে দিলেন চামারি আতাপাত্তু। নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের অবিশ্বাস্য স্পিনের জালে আটকে দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন শ্রীলঙ্কান এই অধিনায়ক। ইনিংসের দ্বিতীয়ভাগে দুর্দান্ত বোলিং করে হ্যাটট্রিকসহ মাত্র ৫ রান খরচায় ৭ উইকেট শিকার করে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩.৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে এই অনন্যসাধারণ ৭ উইকেট নেন ৩৬ বছর বয়সী আতাপাত্তু। এর মাধ্যমে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের প্রথম নারী বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লেন তিনি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করা ষষ্ঠ বোলার হলেন এই লঙ্কান অফস্পিনার।
আতাপাত্তুর এই বিধ্বংসী বোলিং ফিগার নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল থাইল্যান্ডের অফ স্পিনার ওংপাকা লিংপ্রাসার্টের দখলে। তিনি ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ১২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। এ ছাড়া মেয়েদের এশিয়া কাপে এর আগে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল কেবল পাকিস্তানের দুই বোলারের—উমাইমা সোহেল (১৩ রানে ৫ উইকেট) ও নিদা দার (২১ রানে ৫ উইকেট)।
আতাপাত্তুর এই স্পিন বিষে নীল হয়ে মাত্র ৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ফলে ৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনালের দৌড়ে এক পা দিয়ে রাখল শ্রীলঙ্কা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল লঙ্কানরা। চামারি আতাপাত্তু নিজেও ব্যাট হাতে ১৩ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দলের স্কোর বোর্ডে ৬২ রান উঠতেই ৬ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল লঙ্কানরা, তখন দলের ত্রাতা হয়ে আসেন নীলক্ষ্মী সিলভা। তাঁর ৩৫ বলে খেলা দুর্দান্ত ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৪ রানের সম্মানজনক পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ শুরু হয় ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে। ১২৫ রানের মাঝারি জবাবে ব্যাট করতে নামা ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের শুরু থেকেই নিজের অফ স্পিনে দিশেহারা করে দেন আতাপাত্তু। চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকেটের পতনের পর একে একে ধসে পড়তে থাকে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে নিজের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন লঙ্কান অধিনায়ক। ওভারের প্রথম দুই বলে কাড়েক মারিয়ানি ও সান মায়প্রিয়ানিকে আউট করার পর হ্যাটট্রিক বলে দারা পরমিতাকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে নিজের সপ্তম উইকেট তুলে নেন তিনি।
এই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা শ্রীলঙ্কা আগামী রোববার নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে।